দক্ষিন বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীট এবং পিরোজপুর বাসীর অহংকার সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ অত্র এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন।

১৯৫৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ‘পিরোজপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষা কনফারেন্স’ নামে আয়োজিত কনফারেন্সটি ছিল অত্র কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রথম থাপ। এই কনফারেন্সে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন কর হয়। যার আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয় জনাব জয়নুল আবেদীন এম,পি এ কে। ১৯৫৭ সালের ১ লা জানুয়ারী এস,ডি,ও র কোর্টরুমে কলেজ অরগানাইজিং কমিটির এক সভায় জনাব আফতাব উদ্দিন বি,এল সাহেবের প্রস্তাব অনুযায়ী তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর নাম অনুসারে কলেজটির নামকরন করা হয় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, পিরোজপুর। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির পর শাসকদের হিংস্র থাবায় কলেজ গভনিংবডির এক সিদ্ধান্তক্রমে কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পিরোজপুর কলেজ’। ১৯৮০ সালের ১ লা মার্চ কলেজটি শিক্ষামন্ত্রানালয়ের এক প্রজ্ঞাপনবলে ‘পিরোজপুর সরকারি কলেজ’ নামে জাতীয়করণ করা হয় এবং ১৬/০৫/১৯৮০ ইং তারিখে কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জনাব মোঃ জয়নুল আবেদীনের অস্তিম ইচ্ছা অনুসারে কলেজের নামকরণ পুনরায় করা হয় সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ, পিরোজপুর।

১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমদিকে স্থানীয় টাউন স্কুলে কলেজের কার্যক্রম শুরু করা হলেও পরবর্তীতে শামসুন্নেছা হাই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তরফ হতে জনাব মোহাম্মদ আফজাল মিয়া কর্তৃক দানকৃত ৩.৩০ একর জমির উপর অবস্থিত দুখানা পরিত্যক্ত টিনের ঘর এবং নতুন আর একটি গোলপাতার ঘরে কলেজ কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কলেজ দুইটা অনার্স বিল্ডিং, একটি সাইন্স বিল্ডিং, একটি প্রধান ভবন এবং ওমান সরকারের সাহায্যে নির্মিত একটি সাইক্লোন সেন্টার সহ মোট পাঁচটি ভবন রয়েছে। যার তিনটি দ্বিতল ও দুইটি তিনতলা বিশিষ্ট। এছাড়া কলেজের একটি ছাত্রাবাস, একটি মসজিদ ও , একটি মন্দির রয়েছে।

১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষে আইএসসি ও ডিগ্রী কোর্স এবং ১৯৭১-৭২ শিক্ষাবর্ষে বিএসসি কোর্স চালুর মাধ্যমে কলেজটিকে একটি পূনাঙ্গ প্রথম শ্রেনীভূক্ত ডিগ্রী কলেজে উন্নীত করা হয়। ১৯৯৩-৯৪ সালে সর্বপ্রথম বাংলা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে তিনটি বিভাগে মোট ১৪টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমান অবস্থার প্রিক্ষিতে কলেজটিতে মাস্টার্স কোর্স চালু করা সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ‘ওমর ফারুক’ ও ‘ফজলুল হক খোকন’ সহ অনেক ছাত্র ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন। দেশ ও জাতি আজ তাদের জন্য গর্বিত। এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত এবং দেশে বিদেশে তাদের মেধা মনন দিয়ে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাই সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ আজ পিরোজপুরবাসীর অহংকার।